সেদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাসভবনে সেনাসদস্যদের একটি অংশের অতর্কিত আক্রমণে নিভে যায় বঙ্গবন্ধুর জীবনপ্রদীপ। একই রাতে ঘাতকদের বুলেটে প্রাণ দিতে হয় তার ধর্মপ্রাণ সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। রেহাই পায়নি তাদের তিন তরুণ ও শিশু সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল। এছাড়া দুই নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকেও সেই অন্ধকার রাতে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরিধি শুধু বঙ্গবন্ধুর পরিবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচেননি তার একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, তৎকালীন সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদ, নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।
একই দিনে ভিন্ন হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তৎকালীন যুবলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, শিশু নাতি সুকান্ত বাবু, আত্মীয় সজীব সেরনিয়াবাত ও আবদুল নঈম খানকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
ভাগ্যক্রমে সে সময় বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তারা তখন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে এই ১৫ আগস্ট দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে রূপ দিয়ে সরকারি ছুটি পালন করে আসছিল। তবে অতি সম্প্রতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দিবসের রাষ্ট্রীয় ছুটি বাতিল ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে বহাল থেকে যায়।