চালকদের দক্ষতার অভাব ও ফিটনেস সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যার কথা উল্লেখ করে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সকালে তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে দুর্ঘটনা পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, মোটরবাইক সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের পিকআপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের গণপরিবহন খাতের বেশ কিছু মৌলিক সংকট তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, দেশের বেশিরভাগ গণপরিবহন চালকেরই যথাযথ যোগ্যতা বা ফিটনেস নেই। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া সহকারী বা হেলপার থেকে সরাসরি চালক হয়ে ওঠার কারণেই মূলত এ ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক গবেষণার চেয়েও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জরুরি মন্তব্য করে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পাঁচটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও ফিটনেসবিহীন চালক, গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার মারাত্মক অভাব।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির পরিসংখ্যানে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অকাল মৃত্যু অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সর্বস্তরে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে একটি যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী নিরাপদ সড়ক আইন প্রবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সাথে মহাসড়ক সংলগ্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ জরুরি ইউনিট স্থাপন এবং প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন।
উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি বিশেষ মোটরবাইক অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ৮০টি টহল মোটরসাইকেল আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়।