রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও শেরপুর হয়ে সিলেটগামী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রী পরিবহন নিয়ে দুই জেলার পরিবহন পরিচালনা কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
সিলেট-হবিগঞ্জ মহাসড়কে যাত্রীবাহী যান চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। ভোর থেকেই বিভিন্ন টার্মিনালে এসে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বানে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জেলার অন্যান্য পরিবহন সংগঠনগুলো। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় হবিগঞ্জের তিনটি যাত্রীবাহী বাস আটকে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদেই এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয় স্থানীয় পরিবহন নেতারা।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও শেরপুর হয়ে সিলেটগামী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রী পরিবহন নিয়ে দুই জেলার পরিবহন পরিচালনা কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। একাধিকবার প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হলেও কিছুদিন পর আবারও গাড়ি আটকানোর মতো ঘটনা ঘটছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত জুনে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে পূর্বের নিয়মেই বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে, কেবল শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাসগুলো যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। সেই সমঝোতা অনুসারে কিছুদিন যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকলেও গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ তাদের বাইশটি যানবাহন আটকে রাখে। পরবর্তীতে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পরিবহন মালিক সংগঠনের কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এই সমঝোতার কয়েক দিনের মাথায় পুনরায় বাস চলাচলের শুরুতে শ্রীমঙ্গলে আবারও তিনটি গাড়ি আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন আবু মঈন চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, আটকে রাখা যানবাহনগুলো এখনো উদ্ধার না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন এবং পূর্বের চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটবে না।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন দাবি করেন, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই শ্রীমঙ্গলে তাদের টিকিট কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই স্থানীয় সাধারণ শ্রমিকরা গাড়িগুলো আটকে রেখেছেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।