ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ। বিভিন্ন জনমত জরিপে তার দল পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আভাস পাওয়ার পরই তিনি এই ঘোষণা দেন।
সোমবার নিজের রাজনৈতিক দল ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের প্রধান হিসেবে ৬৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নিশ্চিত করেন যে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে নির্বাচনী ময়দান ছাড়লেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক সংহতি রক্ষায় নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের ১২০টি আসনের যেকোনো একটিতে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলকে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ সমর্থন পেতে হয়। কিন্তু ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে প্রকাশিত একাধিক জরিপে দেখা গেছে, গান্তজের দল এই নির্ধারিত সীমারেখা স্পর্শ করতে পারছে না। ক্রমাগত এই জনসমর্থন হ্রাসের মুখে নির্বাচনী মাঠ থেকে তার সরে আসাকে ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে একসময় প্রধান বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা। পরবর্তীকালে ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যৌথ জাতীয় ঐক্য সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হন। এমনকি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভাতেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তিনি। অবশ্য কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের পথ রুদ্ধ করার পেছনে নেতানিয়াহুর কৌশলকে দায়ী করে ২০২৪ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে সেই বিশেষ মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করেন গান্তজ।
রামাল্লাহ থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নুর ওদেহ বিশ্লেষণ করে জানান, নির্বাচনের মাঠ থেকে গান্তজের এই বিদায় অনেকের কাছে বিস্ময়কর ঠেকলেও ২০১৮ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকে নেওয়া তার নানা বিতর্কিত পদক্ষেপের সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে। তিনি যাদের কঠোর রাজনৈতিক সমালোচনা করতেন, ক্ষমতার স্বার্থে তাদের সঙ্গেই সমঝোতার সরকার গড়তে পিছপা হননি, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ খোদ নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকদের অভিমত, গান্তজ মুখে ঐক্যের কথা বললেও তার এই বার্তা মূলত ইহুদিবাদী দলগুলোর ভেতরকার বোঝাপড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের কণ্ঠস্বর কিংবা অ-ইহুদিবাদী দলগুলোকে প্রশাসনের অংশ করার ক্ষেত্রে তার অবস্থান বরাবরই নেতিবাচক। এমনকি পুনরায় নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও, তিনি তথাকথিত এই ইহুদিবাদী ঐক্যের পথেই হাঁটতে প্রস্তুত ছিলেন।