শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বক্তব্য ঘিরে ঢাকা-ভারতের কূটনৈতিক চত্বরে নতুন বিতর্ক

বাংলাদেশে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরদিনই ভারতের দায়িত্বরত কূটনীতিকরা দ্রুত নতুন দিল্লিতে ফিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন।

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বক্তব্য ঘিরে ঢাকা-ভারতের কূটনৈতিক চত্বরে নতুন বিতর্ক

বাংলাদেশে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরদিনই ভারতের দায়িত্বরত কূটনীতিকরা দ্রুত নতুন দিল্লিতে ফিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন।

সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।


সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার আইনি ও বাস্তব দিক বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একাধিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথমত, তাঁর কোনো কার্যকর ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট নেই, কেননা বর্তমান প্রশাসন তা আগেই রহিত করেছে। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে দেশের আদালতে একাধিক গুরুতর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তিনি যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশে ফিরতে আগ্রহী হন এবং রাষ্ট্রও তাঁকে হস্তান্তরে ইচ্ছুক থাকে, তবে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে বড় কোনো জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। তাছাড় কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল পাসপোর্ট না থাকলেও কোনো নাগরিক বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের আবেদন করার অধিকার রাখেন, যা সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে।

তবে বাংলাদেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে কঠিন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে বিমানবন্দর বা সীমান্ত থেকেই তাঁকে আইনি হেফাজতে নেওয়া নিশ্চিত। উচ্চ আদালতে আপিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁকে শুরুতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিচার বিভাগের প্রথাগত নিয়মের মুখে পড়তে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, সেখানে নিজে থেকে এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সাহস দেখানো প্রায় অসম্ভব। অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরূপতার কারণে এখনই তাঁর ফিরে আসার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। তবে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ও দলীয় অস্তিত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবেই ভারত থেকে এমন প্রত্যাবর্তনমূলক বার্তা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

একই সাথে বিষয়টিকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি জটিল সমীকরণ হিসেবে দেখছেন সাবেক কূটনীতিকগণ। তাঁদের মতে, শেখ হাসিনার মতো শীর্ষ রাজনীতিকের অবস্থান পরিবর্তন কেবল তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; বরং এতে দুই দেশের সরকার এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের সম্মতি জড়িত থাকে। ফলে নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে দেশে ফেরার কথা বলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত ঘোষিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি ফিরতে ব্যর্থ হন, তবে তা তাঁর নিজের দলের জন্যই বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা এনে দিতে পারে।