হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর গোপীবাগে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ভক্তদের সাথে সম্প্রীতির বার্তা বিনিময় করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপ্রধান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী।
মঠ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী আঠারোই অক্টোবর মহাসপ্তমীর পুণ্যলগ্নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর কোনো পূজামণ্ডপে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পদচারণা। এদিন সকালের ভাগে তিনি মিশন প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সাধু-সন্ন্যাসী ও সাধারণ পুণ্যার্থীদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। এই বিশেষ সফর ঘিরে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মঠের দায়িত্বশীলদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় দিন মহাষ্টমীতে অর্থাৎ উনিশে অক্টোবর সেখানে উপস্থিত হবেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। কুমারী পূজা ও মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলির মতো গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক আয়োজনের দিনে তার এই অংশগ্রহণকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ও আত্মিক যোগসূত্রের একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি মণ্ডপের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘুরে দেখার পাশাপাশি আগত দর্শনার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
রাষ্ট্রপতি এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের এই আগমনকে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ। তিনি জানান, শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যের ধারক এই পূজামণ্ডপে শীর্ষ দুই ব্যক্তিত্বের পদচারণা এবারের উৎসবের আমেজকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
উল্লেখ্য, নিখুঁত বৈদিক রীতিনীতি, বিশুদ্ধ মন্ত্র পাঠ ও ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজার কারণে দেশব্যাপী রামকৃষ্ণ মিশনের বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। বিশেষ অতিথিদের পরিদর্শনের ওই দুই দিনে সাধারণ পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন ও সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।