শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ আঁকছেন ট্রাম্প

ট্রাম্প সংঘাত পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ পরিসরের কোনো ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী, যেখানে ওয়াশিংটন মূল নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ আঁকছেন ট্রাম্প
ইরানের সাথে সামরিক বিরোধের ইতি টানার পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে নিজেদের আন্তর্জাতিক কৌশল ও ভূরাজনৈতিক নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি-নির্ধারণী দল। 

প্রকাশিত তথ্যমতে, মার্কিন প্রশাসনের এই দূরদর্শী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানি প্রভাব মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা এবং ইসরায়েলকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করতে উৎসাহ প্রদান করা। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প সংঘাত পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ পরিসরের কোনো ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী, যেখানে ওয়াশিংটন মূল নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে গত বছরের অক্টোবরের সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমুখী অস্থিরতা প্রশমন করা। এর মধ্যে গাজা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ প্রণয়ন, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যকার বিশেষ সীমান্ত সুরক্ষা সমঝোতা এবং লেবাননের সাথে বিদ্যমান চুক্তি কার্যকর করার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সাথে বহুল আলোচিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর পরিধি বৃদ্ধি করে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিদ্যমান কূটনৈতিক দূরত্ব দূর করে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথ সুগম করাই ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তবে এই নতুন ভূরাজনৈতিক নীল নকশা বাস্তবায়নে অক্টোবরে নির্ধারিত ইসরায়েলি জাতীয় নির্বাচন এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাশা করছে ইসরায়েলে পরবর্তী মেয়াদের সরকার এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যদিও জেরুজালেমে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এই কূটনৈতিক মিশন থামিয়ে না রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা, যা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে একাধিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি