রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জাপানে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে নিহত ৬

জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা এলাকায় নজিরবিহীন অতিবর্ষণে কমপক্ষে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী জলবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা চরম আকার ধারণ করেছে।

জাপানে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে নিহত ৬
জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা এলাকায় নজিরবিহীন অতিবর্ষণে কমপক্ষে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী জলবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা চরম আকার ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে বিশ হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত সাত হাজার ভ্রমণকারী রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনার গভীরতা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ মাত্রার আবহাওয়া সতর্কতা জারি করে। পরবর্তীতে সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমানো হলেও প্লাবন ও ধসের ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় জনসাধারণকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

জাপানি আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে প্রবাহিত উষ্ণ-আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে ওপরের স্তরের শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে বায়ুমণ্ডলে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়, যার ফলে চিবাতে এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ঘটেছে। চলমান বরষণ আরও কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিবা অঞ্চলের শীর্ষ প্রশাসনিক প্রধান জানান, জাপানের আবহাওয়ার নথিবদ্ধ ইতিহাসে এমন রূপ আগে দেখা যায়নি। বহু দুর্যোগের অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপ্তি তাকেও বেশ অবাক করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এক ঘণ্টায় একশত মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা ওই এলাকার আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তিন গুণেরও বেশি। জাপানের ইতিহাসে এটি একক বৃষ্টিপাতের সর্বোচ্চ রেকর্ড। উদ্ধারকারী সংস্থাসমূহ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে নিহত ছয়জনের তথ্য নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে নিমজ্জিত যানবাহনের ভেতরে এক নারীর প্রাণহানি ঘটেছে। অন্য দুজন সড়কে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মারা যান। বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধার এবং মানুষের প্রাণ রক্ষাকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

টানা বরষণের প্রভাবে রেললাইন ও প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মানুষজন মেট্রো স্টেশন এবং প্রশাসনিক ভবনে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা পুনরারম্ভ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। তবে নারিতা বিমানবন্দর তাদের বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই আবহাওয়াগত সংকটের প্রভাব পড়ছে দূরবর্তী ফিলিপাইনেও, যেখানে প্লাবন আশঙ্কায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ভবন বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু নামের কয়েকটি শক্তিশালী ঝড় একই সঙ্গে তাণ্ডব চালানোয় জাপান, চীন ও ফিলিপাইনে সার্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডলফিনের কারণে চীনে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দশ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞগণ সতর্ক করেছেন যে, বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ও নিচু অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থেকেই যাবে।