রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জাপানে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: আহত ৩৭

ভোররাতে আকস্মিক শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। রিখটার স্কেলে ৫.৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী টোকিওসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জাপানে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: আহত ৩৭

ভোররাতে আকস্মিক শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। রিখটার স্কেলে ৫.৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী টোকিওসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে তিন ডজনেরও বেশি মানুষ শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।


জাপানি আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, ইবারাকি অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠের আনুমানিক ৭০ কিলোমিটার তলদেশে এই ভূকম্পনের কেন্দ্রবিন্দু অবস্থান করছিল। অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়ায় শক্তিশালী তীব্রতা অনুভূত হওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের মাঝে ভিটি তৈরি হয়। তবে এই মুহূর্তে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, দেশটির মোট পাঁচটি প্রিফেকচারে অন্তত ৩৭ জন নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যার মধ্যে কেবল টোকিওতেই ১৫ জন এবং সাইতামা, কানাগাওয়া, চিবা ও ইবারাকিতে বাকিরা আঘাতপ্রাপ্ত হন। ভূকম্পনের সময় অধিকাংশ মানুষ বাসস্থানে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় হঠাৎ কম্পনে বিছানা থেকে ছিটকে পড়ে কিংবা আসবাবপত্র ও দরজার সাথে সজোড়ে ধাক্কা লেগে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোমরে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এক প্রবীণ নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে টোকিও থেকে সংযোগকারী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের অবকাঠামো সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ দল।

সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করতে দেশের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর পূর্বে গত মাসেও দেশটির দক্ষিণীয় কিউশু দ্বীপে ৭.১ মাত্রার বিধ্বংসী ভূকম্পনে প্রায় চার ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।