ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট অঞ্চলের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কলকাতস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেনাপোল এবং ভোমরা—এই দুই সীমান্ত পথ ব্যবহার করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে পরিবারের আগ্রহে অপর এক নিহতের শেষকৃত্য ভারতেই সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার চার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, শর্ণশীষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভার এলাকার আহামেদ বাবুর মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। আর সাতক্ষীরার নাগরিক এস এম আলিমুজ্জামানের দেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মিশনের শীর্ষ কর্মকর্তা মো. খালেদ জানিয়েছেন, অতি দ্রুততার সাথে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দুদেশের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র গুছিয়ে আনার গতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব না হলে পরবর্তী দিনের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
একই ঘটনায় প্রাণ হারানো সাতক্ষীরা জেলার অপর বাসিন্দা রেবতী সরকারের শেষকৃত্য স্বজনদের আবেদনে কলকাতাতেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয় রাজ্য প্রশাসনের আনুষঙ্গিক অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার পররাষ্ট্র বিভাগকে অবহিতকরণ পর্ব শেষ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান, যাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি পর্যটক।
এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শহরটির হোটেলগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ব্যবসা পরিচালনার বৈধ নথি পর্যালোচনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ। নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি ও অনুমতিপত্র না থাকার কারণে ইতোমধ্যে ওই বাণিজ্যিক এলাকার ২৬টি আবাসিক হোটেল এবং ৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থা খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নতুন অতিথি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।