শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চার বছরের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ফের উন্মুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, সিন্ডিকেটমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে, তার ওপরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

চার বছরের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ফের উন্মুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
দীর্ঘ প্রায় চার বছরের স্থবিরতার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলেছে মালয়েশিয়ায়। কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক বার্তা বা আয়োজন ছাড়াই অনেকটাই নিভৃতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাজারটি পুনরায় সচল হয়েছে।

কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির অনুকূলে ২৮ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের আবেদনপত্র সত্যায়নের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। ঢাকার রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে প্রেরিত এই নিয়োগপত্রটি সত্যায়িত হওয়ার পরই মূলত নতুন করে কর্মী যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সরকারিভাবে কোনো সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর আগে এই বন্ধ শ্রমবাজারটি সচল করার লক্ষ্যে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ এবং টানা আলোচনার পরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পর তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর যান এবং মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কর্মী প্রেরণের বিষয়টি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা পরিচালনা করেন। মূলত সেই সফরের মধ্য দিয়েই জট খোলার সূচনা ঘটে, যদিও উভয় দেশের প্রশাসনই এখনো পর্যন্ত নতুন করে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।

এদিকে প্রায় এক মাস পূর্বে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার বিধিমালা ও প্রক্রিয়া প্রকাশ করলেও ঢাকা থেকে কর্মীরা কীভাবে, কোন বৈধ উপায়ে এবং সুনির্দিষ্ট কত খরচে সেখানে পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি। এই নীতিগত অস্পষ্টতার সুযোগে অসাধু চক্র, মধ্যস্বত্বভোগী ও একশ্রেণির জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সামাজিক মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন ও দ্রুত বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন ছড়িয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, যার ফলে বড় ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিগত সময়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে বহুগুণ অতিরিক্ত অর্থ গচ্চা দেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় এবারও একই শঙ্কা বিরাজ করছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য খরচে গমন নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থা কঠোর রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, সিন্ডিকেটমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে, তার ওপরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। অতীতের দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা দমন করাই এখন নীতি-নির্ধারকদের মূল পরীক্ষা।