পশ্চিম এশিয়ার ভূখণ্ড থেকে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের সব ধরনের উপস্থিতি পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার কঠোর তাগিদ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের বিশেষ এই সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যকে যৌথ এই শক্তির ধ্বংসাত্মক এবং অপতৎপরতামূলক অবস্থান থেকে মুক্ত করা অপরিহার্য।
এদিকে সামগ্রিক উত্তেজনার মাঝে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, তেহরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেই ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, তেহরান যদি বাস্তবিক অর্থেই কোনো সমাধানে পৌঁছাতে চায়, তবে তাদের জন্য এখনো আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
অন্যদিকে সংঘাতের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি আমেরিকান সংবাদমাধ্যমকে জানান, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাকের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সম্মতি দিচ্ছে না তেহরান। তিনি স্পষ্ট করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে বাগদাদের প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির নিয়মিত মাসিক রফতানি আয় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক আকাশপথে তেহরানের চলাচল স্তব্ধ করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বুধবারের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা সব কটি ইরানি আকাশযান সংস্থার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই ঘোষণার পরপরই বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরানের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইরান এয়ার। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তেহরান, মাশহাদ এবং ইসফাহান থেকে ইরাকের নাজাফ রুটে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা হবে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মাঝে তাদের এমন ঘোষণায় ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা