দেশের ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের, বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বা এনআইডি কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার বিষয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
যদিও এই বৃহৎ উদ্যোগটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি সংস্থাটি। শনিবার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ওই আলোচনা সভায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের এনআইডি নিবন্ধনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, উল্লিখিত বয়সের নাগরিকদের একটি সুসংগঠিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেজ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সরাসরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সূচনা করা যেতে পারে।
এই সভার কার্যবিবরণী অনুসারে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই উদ্যোগটি নিয়ে একটি বিস্তারিত কর্মশালা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময় করে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের ভার ন্যস্ত করা হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের ওপর।
বিদ্যমান নিয়মাবলি অনুযায়ী, দেশের নাগরিকরা ১৭ বছর পূর্ণ করলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র লাভের যোগ্য বিবেচিত হন এবং বয়স ১৮ বছর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হন। তবে বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও কম বয়সীদেরও এই সেবার আওতাভুক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উঠে আসছিল। মূলত সেই চাহিদার দিকে নজর রেখেই নির্বাচন কমিশন অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিবন্ধনের এই পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মাঝে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন সর্বমোট ১ হাজার ২৬৭ জন।