শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই চেতনার মালিকানা দাবি করতে থাকলে নবীন বন্ধুরা নবীনই থেকে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জাতির কিছু অর্জন সম্পূর্ণ সর্বজনীন, যার একক কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনীতিতে আসা নতুন প্রজন্ম যদি চব্বিশের বিজয়কে কেবল নিজেদের অর্জন বলে প্রচার করতে থাকে, তবে একপর্যায়ে এই অর্জন আর কারোই থাকবে না।

চব্বিশের গণআন্দোলনের সাফল্যকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের বলে দাবি করলে তাদের রাজনৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের একচেটিয়া অধিকার ফলানোর মানসিকতা শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ের মূল স্পিরিট বা চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। অতীতে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একচ্ছত্র অধিকারী বা ঠিকাদার সাজতে চেয়েছিলেন, রাজনৈতিক ময়দানে তাদের পতন নিশ্চিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে পুঁজি করে যারা ফায়দা লুটেছিলেন, তারা আজ দেশান্তরী হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জাতির কিছু অর্জন সম্পূর্ণ সর্বজনীন, যার একক কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনীতিতে আসা নতুন প্রজন্ম যদি চব্বিশের বিজয়কে কেবল নিজেদের অর্জন বলে প্রচার করতে থাকে, তবে একপর্যায়ে এই অর্জন আর কারোই থাকবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চব্বিশের এই পরিবর্তন কেবল একদিনের বা জুলাই মাসের ছত্রিশ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ফল নয়। এর পেছনে ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের অসংখ্য মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ শাসনকালে বহু নারী স্বামী হারিয়েছেন, অসংখ্য মায়ের কোল শূন্য হয়েছে। গুম হওয়া ইলিয়াস আলীসহ অনেকেই আজও নিখোঁজ রয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ও গুম হওয়া পরিবারগুলোই সবচেয়ে ভালো জানে, আজকের এই স্বাধীন পরিবেশ ফিরে পেতে তাদের কতখানি চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে। তাই সাম্প্রতিক ছত্রিশ দিনের আন্দোলনকে যারা নিজেদের একক কৃতিত্ব বলে মনে করছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিধি কখনোই বিস্তৃতি লাভ করবে না বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন।

এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি নাসিমুল গনি। আয়োজনে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।