বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রকাশ, থাকছে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম

মডেল মসজিদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী পেশ ইমামের জন্য মাসিক কুড়ি হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনের জন্য পনেরো হাজার টাকা এবং খাদেমের জন্য বারো হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রকাশ, থাকছে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম
সারাদেশে নির্মিত মডেল মসজিদগুলোকে কেবল প্রার্থনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণের কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত করেছে সরকার।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনাবলী কার্যকর করা হয়। নতুন এই নীতিমালায় মসজিদের সামগ্রিক পরিচালনা ব্যবস্থা, কর্মী নিয়োগ, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন স্তরের ধর্মীয় শিক্ষাদান, হিসাবরক্ষণ ও কাঠামোগত নিরাপত্তার বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুসারে, মডেল মসজিদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী পেশ ইমামের জন্য মাসিক কুড়ি হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনের জন্য পনেরো হাজার টাকা এবং খাদেমের জন্য বারো হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে খতিব এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত রাজস্ব ও আর্থিক সংগতি রয়েছে, তারা চাইলে সরকারি পে-স্কেল অনুসরণ করে নির্ধারিত গ্রেডে বেতন প্রদান করতে পারবে। সেই কাঠামোতে ইমামের ক্ষেত্রে দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিনের ক্ষেত্রে ষোড়শ গ্রেড এবং খাদেমের ক্ষেত্রে অষ্টাদশ গ্রেড প্রযোজ্য হবে, যেখানে খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পদসমূহ চুক্তিভিত্তিক রূপেই বহাল থাকবে।

নীতিমালায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ আচরণবিধি আরোপ করে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিটি কর্মে সর্বোচ্চ সততা, তাকওয়া ও আমানতদারিতা বজায় রাখতে হবে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করা যাবে না। পাশাপাশি দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান সংযুক্ত রয়েছে।

মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় জ্ঞানের প্রসারে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত এবং জুমার জামাত ছাড়াও পবিত্র কুরআন পাঠ, বয়োবৃদ্ধদের শিক্ষা, হিফজখানা ও শিশু মক্তব চালু করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে তারাবির জন্য যোগ্য হাফেজ নিয়োগ এবং তাদের থাকার সুব্যবস্থা করা কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অপসংস্কৃতি, মাদকের অপব্যবহার, চরমপন্থা, প্রকৃতি ধ্বংস, সামাজিক গুজব ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে জুমার প্রাক-খুতবায় নিয়মিত আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে মসজিদ চত্বরের পবিত্রতা, সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপার্জিত অর্থ সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা করার নিয়ম করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা এবং মসজিদের নিজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের এখতিয়ারও পরিচালনা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।