শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মরক্কো

সদ্য সমাপ্ত আইনসভা নির্বাচনে ফাতিমার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি' (পাম) সর্বমোট ৯৭টি আসনে জয়লাভ করে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মরক্কো
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরির নাম অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সমগ্র আরব বলয়ে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।

সদ্য সমাপ্ত আইনসভা নির্বাচনে ফাতিমার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি' (পাম) সর্বমোট ৯৭টি আসনে জয়লাভ করে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সাফল্যের পর দলের অপর প্রভাবশালী মুখ ফৌজি লেকজার পরিবর্তে পঞ্চাশ বছর বয়সী মানসুরির ওপরেই আস্থা রাখেন দেশটির বাদশাহ।

আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত মানসুরি মরক্কোর মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক উচ্চশিক্ষা শেষে বাণিজ্যিক আইনের ওপর উচ্চতর সনদের জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়ন করেন। ২০০৯ সালে ঐতিহাসিক মারাকেশ নগরীর প্রথম নারী মেয়র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিগত জাতীয় ঐক্যের মন্ত্রিসভায় নগর উন্নয়ন ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে সামলান এই রাজনীতিবিদ।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বাদশাহকে নারী অগ্রযাত্রার প্রধান পৃষ্ঠপোষক অভিহিত করে বলেন, মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় এক স্বীকৃতি। তবে সামাজিক উত্তরাধিকার বা নারী অধিকার সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর আইনি সংস্কারের প্রশ্নে বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি; এমনকি নিজেকে কঠোর ব্যক্তিত্বের কোনো নেত্রী ভাবতেও অপছন্দ করেন।

মরক্কোর প্রচলিত শাসনতান্ত্রিক বিধান অনুসারে বিজয়ী রাজনৈতিক শিবির থেকেই নির্বাহী প্রধান বাছাইয়ের রেওয়াজ থাকলেও সংসদে সরকার গঠনের ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পাম পার্টিকে এখন অন্য সহযোগী দলগুলোর সমর্থন নিয়েই অংশীদারি সরকার গঠন করতে হবে। একদিকে বিগত মেয়াদের অংশীদার আরএনআই দলের সাথে বোঝাপড়ার অবসান এবং অন্যদিকে ইসলামপন্থী পিজেডি দলের বিরোধী বেঞ্চে বসার স্পষ্ট অবস্থানের কারণে নতুন জোট সরকারের রূপরেখা ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।