রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

সরাসরি চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, সৌদিয়ার ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট এই তালিকায় রয়েছে।

সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যাতায়াতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং ওমরাহ পালন করতে ইচ্ছুক যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই রুটে মোট ১৪৪টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী নিদারুণ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া হিসাবমতে, বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট রুটের। সরাসরি চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, সৌদিয়ার ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট এই তালিকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ৩০টি ফ্লাইট। এছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটগুলোতেও এই সীমাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যেসব যাত্রী ভিন্ন দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারাও এখন নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কায় আছেন। বাধ্য হয়ে অনেককেই নিজেদের যাত্রার তারিখ বদলাতে হচ্ছে অথবা নতুন ফ্লাইটের সন্ধান করতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন যাত্রী টিকিটের টাকা ফেরত পেয়েছেন বা বিকল্প ফ্লাইটে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান কোথাও উল্লেখ নেই।

ফ্লাইট বাতিলের এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসী কর্মীরা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী ও ওমরাহ যাত্রীদেরও নিজেদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনায় বাধ্য হয়ে রদবদল আনতে হচ্ছে।

এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে এয়ারলাইন্সগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানো, টিকিটের সময়সূচি পরিবর্তন করা এবং টাকা ফেরতের আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রীদের কাছে নিয়মিত সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াটাও আবশ্যক। বেবিচক এবং সংশ্লিষ্ট বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকলে এই ভোগান্তি কমানো কঠিন হবে।

সার্বিক আকাশপথের যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়াটা মূলত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণ গতিতে শুরু হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের ভ্রমণের আগেই নিজেদের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল যাত্রীদের সতর্ক করাই যথেষ্ট নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিট রিফান্ড এবং বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছ ও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।