সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কওমি মাদ্রাসায় নিপীড়ন রোধে হটলাইন ও সুরক্ষা কমিটি গঠনের কড়া নির্দেশ

শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের বিষয়টি একটি পুরোনো সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে আটকে নেই; বরং সাধারণ স্কুল থেকে শুরু করে মাদ্রাসা—সব জায়গাতেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে।

কওমি মাদ্রাসায় নিপীড়ন রোধে হটলাইন ও সুরক্ষা কমিটি গঠনের কড়া নির্দেশ
শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিপীড়ন ঠেকাতে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে অভিযোগ কেন্দ্র বা হটলাইন, মনিটরিং সেল এবং ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠনের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ এই দুই নেতা স্পষ্ট জানান, শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের ওপর নির্যাতন বা কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এর জেরে কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিক, সেটিও কাম্য নয়। দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখার স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের বিষয়টি একটি পুরোনো সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে আটকে নেই; বরং সাধারণ স্কুল থেকে শুরু করে মাদ্রাসা—সব জায়গাতেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে।

নিজেদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডকে নতুন কিছু রূপরেখা দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ওই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন কিংবা নিষ্ক্রিয় কমিটিকে সচল করতে হবে। শিশু নিপীড়নের মতো কোনো অভিযোগ উঠলে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি বোর্ডের অধীনে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা ও অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করার কথা বলা হয়েছে। কোনো মাদ্রাসা এসব নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে বা সুরক্ষা কমিটি না রাখলে তাদের নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করার মতো কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই কঠোর নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে পরিচালনা করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নৈতিক অবক্ষয়ের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এই শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা, শতভাগ নিরাপত্তা এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আপসহীন ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয় ওই বিবৃতিতে।