সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোনো নৌযানকে সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের ছাড়পত্র দিতে পারবে না।

পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন
আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াতের দুয়ার পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগ মিলবে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। তবে এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার দর্শনার্থী সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ মাশুল পরিশোধ করতে হবে। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে রোববার সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোনো নৌযানকে সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের ছাড়পত্র দিতে পারবে না। তবে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পূর্বানুমোদিত জাহাজগুলোর চলাচল অব্যাহত থাকবে। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মাশুল আদায়ের প্রক্রিয়াটি ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬-এর ২৬ নম্বর বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য শর্তাবলিও অপরিবর্তিত থাকবে। এসব বিধিমালা বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন এই নির্দেশনায় আগামী মাসে দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিন গণমাধ্যমের কাছে নিজের অজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরে দ্বীপটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারণে কেউ সেখানে যেতে পারেননি এবং ওই মাসে রাত্রিযাপনেও বাধা ছিল। পরবর্তীতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন মাত্র দুই হাজার মানুষকে সেখানে যাওয়ার এবং রাতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।