জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পুনর্গঠন করে দুটি পৃথক ও স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রশাসনিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নয়া প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী একটি সংস্থা নীতি নির্ধারণী গবেষণা শাখা হিসেবে এবং অপরটি প্রত্যক্ষ কর ও শুল্ক আদায়কারী কার্যকরী শাখা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নীতি সংক্রান্ত শাখাটি দেশীয় অর্থনীতির জন্য টেকসই ও ব্যবসায়িক পরিবেশবান্ধব কর রূপরেখা তৈরিতে পরামর্শক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। অপরদিকে রাজস্ব সংগ্রহ শাখাটি কর আদায় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা করবে। সাধারণ জনগণের ওপর অন্যায্য চাপ না বাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আওতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ফাঁকি রোধের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তিনি জানান, ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। অর্থ আহরণ ব্যবস্থার রূপান্তরে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন, স্পর্শমুক্ত ও ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিতকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যেন সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সশরীরে দপ্তরগুলোতে যেতে না হয়।
দেশের কর ও মোট দেশজ উৎপাদনের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতার বিষয় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক হারের তুলনায় দেশীয় কর আদায়ের হার বৈশ্বিক মানদণ্ডে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।


