শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নিরাপত্তা শঙ্কায় ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে বোমারু বহর সরিয়ে নিলো ওয়াশিংটন

ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত সমস্ত কৌশলগত বোমারু বিমান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক স্থাপনাগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১, বি-২ এবং বি-৫২ যুদ্ধবিমানগুলো আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিখুঁত ও বিধ্বংসী আক্রমণ পরিচালনায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে বোমারু বহর সরিয়ে নিলো ওয়াশিংটন
সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা নিজেদের বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলো হঠাৎ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

পেন্টাগনের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত সমস্ত কৌশলগত বোমারু বিমান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক স্থাপনাগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১, বি-২ এবং বি-৫২ যুদ্ধবিমানগুলো আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিখুঁত ও বিধ্বংসী আক্রমণ পরিচালনায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডন থেকে প্রায় একশত ষাট কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি টি বিগত সাত মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি এই স্থাপনাটিকে নিশানা করে ইরান-সংশ্লিষ্ট নাশকতামূলক আঘাতের ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে আসে।

পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরক স্থাপনের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে ব্রিটিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও তেহরান এই অভিযোগ জোরালোভাবে নাকচ করে এবং পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় পরদিনই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়, তবুও ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ওই ঘাঁটিতে হামলা চালানোর চক্রান্তে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পঁচিশ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই চক্রান্তের পেছনে তেহরানের হাত থাকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এছাড়া ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স উল্লেখ করেছেন যে, সব ধরনের সম্ভাব্য যোগসূত্র মাথায় রেখে অত্যন্ত জটিল ও গভীর তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্তদের পাকড়াও করার পদক্ষেপের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, সন্দেহভাজনরা আমেরিকান সামরিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের এমন পদক্ষেপ ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। উল্লেখ্য, বিগত মার্চে যুক্তরাজ্য প্রশাসন মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিগুলো আত্মরক্ষামূলক কৌশলগত কার্যক্রমে ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছিল।


সূত্র : আলজাজিরা