বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে অবাধে মাদক ঢুকছে: তালেবান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আফিমের মূল উপাদান পপি আবাদ বেড়ে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই কাবুলের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হলো।

পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে অবাধে মাদক ঢুকছে: তালেবান
পাকিস্তানের সীমান্ত ব্যবহার করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিপুল পরিমাণে প্রচলিত ও সিন্থেটিক মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসছে বলে অভিযোগ তুলেছে কাবুল। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি সম্প্রতি এই দাবি উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে আন্তঃসীমান্ত মাদক চোরাচালান বন্ধে ইসলামাবাদকে যথাযথ ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আফগান সংবাদমাধ্যম আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আফিমের মূল উপাদান পপি আবাদ বেড়ে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই কাবুলের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হলো। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান সরকার মাদকের চাষাবাদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চল পপি উৎপাদনের নতুন ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পাকিস্তানের ওপর বৈশ্বিক চাপ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল মতিন কানি। তার মতে, তালেবান সরকার নিজেদের সীমানায় মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার পূরণ করেছে এবং দেশটিতে বর্তমানে মাদকের আবাদ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে কাবুলের এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২২ সাল অবধি বৈশ্বিক অবৈধ আফিমের প্রায় আশি শতাংশই আসত আফগানিস্তান থেকে। কিন্তু তালেবান শাসকদের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর সেখানে আফিমের উৎপাদন পঁচানব্বই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

জাতিসংঘের ওই পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে যেখানে দুই লাখ বত্রিশ হাজার হেক্টর জমিতে পপি চাষ হতো, ২০২৫ সালে তা সংকুচিত হয়ে মাত্র দশ হাজার দুইশ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ের ব্যবধানে দেশটিতে আফিমের বার্ষিক উৎপাদন ছয় হাজার দুইশ টন থেকে কমে মাত্র দুইশ ছিয়ানব্বই টনে নেমেছে। অবশ্য জাতিসংঘের ধারণা, উৎপাদন কমলেও আফগানিস্তানে আগে থেকে সংরক্ষিত যে পরিমাণ আফিম রয়েছে, তা দিয়ে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ যোগান ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।