রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তায় সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তায় সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম বার্ষিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সর্বজনীন নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় দশ হাজার বিজিবি নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দপ্তরের অপারেশনস বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জাতীয় বার্তা সংস্থাকে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, উৎসবটি যেন নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন আবহে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য বাহিনীটি বহুমুখী নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে। এর আওতায় চলমান টহল তৎপরতা, গোপন নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও পূজা কমিটির সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্তকরণ, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা এবং উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটার পরিসীমা এবং ব্যাটালিয়ন কাঠামোর সন্নিহিত অঞ্চলসহ সর্বমোট দুই হাজার সাতশত সাতাশটি পূজামণ্ডপে বাহিনীটি প্রত্যক্ষ সুরক্ষা প্রদান করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এছাড়া প্রত্যন্ত ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন জনপদে দ্রুত পৌঁছানো ও সহায়তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ঢাকায় সদস্যদের অবস্থান ও দায়িত্বের পরিধি সরকারি সিদ্ধান্ত এবং চাহিদার নিরিখে চূড়ান্ত করা হবে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় মেট্রোপলিটন পুলিশ ও নাগরিক প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিরাপত্তা তদারকি, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় বাহিনীটি সম্পূর্ণ সতর্ক থাকবে।

তিনি আরও যোগ করেন, এই শারদীয় উৎসব আমাদের বহুত্ববাদী সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার ঐতিহাসিক প্রতীক। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন সম্পূর্ণ শঙ্কাহীন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা বাস্তবায়নে বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।