শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নাইজেরিয়ায় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে ৩১ জনের মৃত্যু

চলতি বর্ষের প্রথম দিক থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে কিছু উপসর্গধারী রোগী পাওয়া যাচ্ছিল, তবে আগস্ট মাস নাগাদ সংক্রমণটি গুরুতর সামাজিক সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়। এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত ৪৬৯ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে এই জীবাণুর উপস্থিতি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে ৩১ জনের মৃত্যু
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ডিপথেরিয়ার বিস্তার আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। দেশটির প্লেটো অঙ্গরাজ্যে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের শিকার হয়ে ইতোমধ্যে অন্তত একত্রিশ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় দশটি প্রশাসনিক অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চার শতাধিক মানুষের দেহে রোগটির উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে বলে সতর্ক করেছে সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার প্রাদেশিক কেন্দ্র জোসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিবরণ তুলে ধরেন প্লেটোর স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনার ড. নিকোলাস বামলং।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বর্ষের প্রথম দিক থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে কিছু উপসর্গধারী রোগী পাওয়া যাচ্ছিল, তবে আগস্ট মাস নাগাদ সংক্রমণটি গুরুতর সামাজিক সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়। এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত ৪৬৯ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে এই জীবাণুর উপস্থিতি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত হয়েছে।

আঞ্চলিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জোস নর্থ অঞ্চলেই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৭০ জন অসুস্থতার শিকার হয়েছেন। অন্যান্য এলাকার মধ্যে ওয়াসেতে উনত্রিশ, জোস সাউথে বাইশ, বারকিন লাডি ও মাঙ্গু অঞ্চলে যৌথভাবে বত্রিশ এবং প্যাঙ্কশিনে পাঁচজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করেছে চিকিৎসা দলগুলো।

সংক্রমণের বিস্তার রুখতে নজরদারি বৃদ্ধি, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের ট্র্যাকিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষেধক প্রয়োগ কর্মসূচিতে জোর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সুরক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত এক লক্ষ ষাট সহস্রাধিক কমবয়সীকে ডিপথেরিয়া ও ধনুষ্টঙ্কারের প্রতিষেধক ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ডিপথেরিয়া মূলত একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত অতিসংক্রামক ব্যাধি যা মানবদেহের শ্বাসযন্ত্রকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে শ্বাসরোধসহ চরম বিপত্তি ডেকে আনে। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও যথাসময়ে টিকাদানের মাধ্যমে এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব।