প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে।
সচিবালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে খসড়াটি সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সভা অর্থাৎ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের উদ্দেশ্যে পেশ করা হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের সম্মতি মিললে পরবর্তী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, পূর্বের বেতন স্কেল প্রবর্তনের প্রায় বারো বছর পর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন সেই পর্যালোচনা দল চলতি বছরের প্রথম দিকে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে জমা দেয়।
কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান ২০টি ধাপে বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। যেখানে প্রারম্ভিক মূল বেতন আট হাজার আড়াইশো টাকা থেকে উন্নীত করে বিশ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ষাট হাজার টাকা নির্ধারণের মতামত দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে ১৪ লাখ চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর জন্য বছরে খরচ হওয়া এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বাইরে নতুন এই স্কেল পুরোদমে চালুর জন্য অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয় সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য। এই কমিটি অতিরিক্ত খরচের চাপ সামলাতে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং দুই অর্থবছরে ভাগে ভাগে স্কেলটি বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়, যার প্রথমভাগে মূল বেতন ও পরবর্তী ভাগে অন্যান্য ভাতা যুক্ত করার কথা বলা হয়।
এদিকে বাজেট অধিবেশন চলাকালে গত জুন মাসে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেন যে, দীর্ঘ ১১ বছর একই বেতন কাঠামো বহাল থাকা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১ জুলাই থেকেই ধাপে ধাপে নতুন স্কেল কার্যকর করা হবে। চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সবশেষ তথ্যমতে, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত পাসের জন্য যে নথিটি প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতেও ১ জুলাই থেকেই আংশিক বা কিস্তিতে মূল বেতন দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।