শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

এবার প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় সুনির্দিষ্ট করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কার্ড প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে ভিনদেশে থাকা বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা ও জরুরি সহায়তা খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

এবার প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় সুনির্দিষ্ট করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কার্ড প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে ভিনদেশে থাকা বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা ও জরুরি সহায়তা খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় ‘সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননা ২০২৬’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রম পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হন মন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি পদকজয়ী প্রবাসী ব্যক্তিবর্গসহ উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অপরিসীম ভূমিকা এবং বিশ্বমঞ্চে মাতৃভূমির উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীদের স্বীকৃতি দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বজনদের ছেড়ে দূরপরবাসে তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির ফলে পাঠানো অর্থ লাখো পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হচ্ছে, তেমনি দেশের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোও শক্ত ভিত পাচ্ছে। শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণেই প্রবাসীদের অর্জন সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিদেশের মাটিতে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা, নতুন শিল্প স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে তারা দেশের জন্য অভাবনীয় সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছেন।

মাতৃভূমিতে বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়ে তিনি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। আবাসন খাতের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্প কারখানা, কৃষি খাত, পর্যটন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় অর্থলগ্নি করার পরামর্শ দেন তিনি। এসব বহুমুখী খাতে মূলধন বিনিয়োগ করা হলে দেশে বেকারত্ব দূর হয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া বিদেশের বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটানো, বিভিন্ন রাষ্ট্রে জনশক্তির চাহিদার বিষয়ে সরকারকে হালনাগাদ তথ্য প্রদান এবং নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার জন্যও তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রপ্রধানসহ গোটা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহায়তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় সব আইন ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কারও ব্যক্তিগত কোনো নেতিবাচক কাজের কারণে যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট না হয়। প্রবাসীদের মেধা, শ্রম ও অর্থকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি আয়োজক সংগঠনের এমন সুন্দর উদ্যোগের সাধুবাদ জানান।

দুবাইয়ের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের আইনপ্রণেতা মো. আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক। এছাড়া আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ, দুবাইয়ের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ড. মোহাম্মেদ সাঈদ আল কিন্দিও এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন।