শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মেটা সিইও জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক প্রাসাদ

প্রযুক্তি সংস্থা মেটার শীর্ষ নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং তার জীবনসঙ্গী প্রিসিলা চ্যান ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এক প্রাচীন রাজপ্রাসাদ ক্রয় করেছেন।

মেটা সিইও জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক প্রাসাদ

প্রযুক্তি সংস্থা মেটার শীর্ষ নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং তার জীবনসঙ্গী প্রিসিলা চ্যান ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এক প্রাচীন রাজপ্রাসাদ ক্রয় করেছেন।

কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত গথিক স্থাপত্যরীতির এই চোখধাঁধানো ভবনটি ১৭৮ হেক্টর বা প্রায় ৪৪০ একর ভূমির ওপর নির্মিত। ইউরোপীয় দেশটি সফরের সময় জাকারবার্গ দম্পতি এটিকে নিজেদের নিজস্ব বাসস্থান হিসেবে কাজে লাগাবেন। উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডে মেটার আন্তর্জাতিক প্রধান কার্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।


সংগৃহীত এই ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির চূড়ান্ত কেনাবেচার অঙ্ক জনসমক্ষে আনেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে আইরিশ সংবাদমাধ্যমের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, প্রাসাদটির আর্থিক মূল্যায়ন দুই থেকে তিন কোটি ইউরোর ঘরে পৌঁছাতে পারে। এটি ওই প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিলাসবহুল সুপারইয়টের মোট মূল্যের প্রায় এক-দশমাংশ।

ঐতিহাসিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, উনবিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে তদানীন্তন আইনপ্রণেতা জন কেইলির বাসভবন হিসেবে স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইনের নকশায় ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। স্ট্রানক্যালি ক্যাসেল নামের এই স্থাপনাটি আকৃতিতে এতটাই বিশাল যে, এর ভোজনকক্ষ থেকে রন্ধনশালায় পৌঁছাতেই দ্রুত পায়ে হেঁটে প্রায় চার মিনিটের বেশি সময় পার হয়ে যায়। বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ স্থানীয় ঐতিহ্য বিষয়ক একটি বিখ্যাত বইতেও ঠাঁই পেয়েছে।

এই বিষয়ে জাকারবার্গের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, শতবর্ষী এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষায় সম্পৃক্ত হতে পেরে জাকারবার্গ পরিবার অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা শিগগিরই সেখানে অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা করছেন।

চলতি শতকের সূচনালগ্নে বিনিয়োগকারী মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তার সহধর্মিনী প্রাসাদটি অধিগ্রহণ করে অবকাঠামোগত সংস্কার সাধন করেছিলেন। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে বসবাস শেষে তারা সম্পত্তিটি এই মার্কিন দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন। এক বার্তায় বিদায়ী মালিকপক্ষ এই সম্পদটির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা জ্ঞাপন করেছেন।

স্থাপত্যশৈলী এবং পাথরের জটিল কারুকাজের বিচারে আইরিশ প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের নথিতে প্রাসাদটির বিশেষ প্রশংসা রয়েছে। এই বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলে বেশ কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক সম্পত্তি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতের আন্তর্জাতিক শীর্ষ ধনকুবেরদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।