সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রামপালের অব্যবহৃত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন

সভায় সব মিলিয়ে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আর্থিক জোগানে মোট তেরোটি উন্নয়ন উদ্যোগের ছাড়পত্র মিলেছে।

রামপালের অব্যবহৃত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুত রাখা পতিত জমিতে এবার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেখানে দ্বিতীয় ধাপের কয়লা ইউনিটের পরিকল্পনা স্থগিত থাকায় ভরাটকৃত বিশাল ভূখণ্ডটি দীর্ঘ সময় ধরে অলস অবস্থায় পড়ে ছিল। সেই জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারপ্রধানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় সব মিলিয়ে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আর্থিক জোগানে মোট তেরোটি উন্নয়ন উদ্যোগের ছাড়পত্র মিলেছে। এর মধ্যে সিংহভাগ জোগান আসবে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে, যা প্রায় ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণের সংস্থান রয়েছে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট তালিকার দশটি একদম নতুন কর্মসূচি, দুটি ক্ষেত্রে আর্থিক ও কাঠামোগত সংশোধন আনা হয়েছে এবং একটি ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রামপালের মূল প্রকল্পে শুরুতে কোনো বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়নি এবং সরাসরি সঞ্চালন লাইনে যোগ করার কথা ছিল। তবে শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এতে আট ঘণ্টার শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফলে প্রকল্প পরিকল্পনায় সংশোধন আসবে এবং সামগ্রিক ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সেখানে চালু থাকা কেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় পর্যায়টির কাজ শুরু না হওয়ায় উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বে ভরাট করা প্রায় ৬৮৫ একর উঁচু জমি এই নতুন প্রকল্পে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ফলে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের কোনো ঝামেলা থাকছে না। পরিবেশগত প্রভাব যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্রের কাজগুলো এখন চলমান রয়েছে।

অবকাঠামোগত স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান তদারকিতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, যেকোনো রাস্তাঘাট বা সেতু নির্মাণের পর প্রথম ছত্রিশ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা বড় বিচ্যুতি চিহ্নিত হলে তার দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে এবং নিজস্ব খরচে তা সংস্কার করে দিতে হবে। এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে নির্মাণ চুক্তিতে সুরক্ষামূলক জামানত ও মেরামতের শর্তাবলি যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহরতলির লোকালয়ে পানিবদ্ধতা প্রতিরোধে ড্রেনেজ সুবিধাহীন কোনো সড়ক অনুমোদন না দেওয়ার স্পষ্ট তাগিদ এসেছে, যাতে বৃষ্টির পানি জমে পিচঢালা পথ দ্রুত নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে আধুনিক পয়োনিষ্কাশনের সংস্থান বাধ্যতামূলক করার কথাও জানানো হয়।

এদিনের অনুমোদিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে আর্থিক দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় আকার পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো সংস্কার কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় সংশোধন। সেখানে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে সার্বিক বরাদ্দ দাঁড় করানো হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, যার পুরোটাই জোগান দেবে সরকার। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগকে আরও বেগবান করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ত্রিশটি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন আমদানিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।