১৭ আগস্ট সোমবার মধ্যাহ্নে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর সুপারিশ সংক্রান্ত পর্যালোচনার আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকেও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশংসাযোগ্য বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার প্রত্যক্ষ করা গেছে। বিগত ১৮০ দিনের মধ্যে গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, সরকারপ্রধানের ঘোষিত নির্দেশনার আলোকেই প্রথম ছয় মাসে জনহিতকর উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও সরকার সফলতার সাথে সেগুলো সামলে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি। বিশেষ করে বোরো চাষিদের স্বস্তি দিতে প্রায় এক মাস মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রেখে পরে তা সহনীয় মাত্রায় পুনঃনির্ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী ছিল।
বিগত আমল থেকে চলে আসা গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি হঠাৎ করে সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রপ্রধান বলেন, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন বজায় রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। একই সাথে সামিট ও অ্যাকসিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালগুলোতে সচরাচর কারিগরি ত্রুটি ঘটার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের প্রশাসনিক জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি যোগ করেন, গ্যাস খাতের বৈদেশিয় নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের ভেতরে অনশোর ও অফশোরে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ গতি পেয়েছে, যার সুফল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে।
সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম নীতি-নির্ধারণী বৈঠকেই দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণসহ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় উপাসকদের নিয়মিত সম্মানী প্রদান শুরু হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য সামাজিক সম্মান নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ আশ্বাস দেন, সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপের দরুন দেশে প্রয়োজনীয় খাদ্যের নিরাপদ মজুত তৈরি হয়েছে। বিগত ছয় মাসে সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত অর্জন ও অগ্রগতির প্রতিবেদন শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।