সৌদি ভূখণ্ডের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে চরম পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।
রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল এনার্জি কংগ্রেসে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন, গেল কয়েক সপ্তাহের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে তাদের পক্ষ থেকেও সমমাত্রার কড়া জবাব নিশ্চিত করা হবে।
রিয়াদের সরকারি বিবরণে জানা যায়, গেল রবিবার দেশটির প্রধান বিমানবন্দর কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনালের একটি অংশে চালানো হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক প্রাণ হারান। এর ঠিক পূর্ববর্তী দিন, অর্থাৎ শনিবারে একই স্থাপনার অপর টার্মিনালে বিদ্রোহীদের রকেট হামলায় তেরো জনের প্রাণহানি ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট অংশটির সার্বিক উড়োজাহাজ চলাচল কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে পড়ে।
বিপরীতে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সৌদি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা রিয়াদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবারে সানার একটি আবাসিক এলাকায় সৌদি বাহিনীর বিমান হামলায় এক শিশুর মৃত্যু ছাড়াও আরও ছয়জন জখম হন।
উল্লেখ্য, লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাকাসহ নানা রণক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরেই আকাশপথে সমর্থন জুগিয়ে আসছে রিয়াদ পরিচালিত সামরিক জোট। চৌদ্দ সালের দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রাজধানী দখল করে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নিলে রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীকালে পনেরো সালে বৈধ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করলে সংকটের গভীরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
সূত্র: আওয়ানি ইন্টারন্যাশনাল