মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শান্তি বিনির্মাণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সম্মিলিত কল্যাণের স্বার্থে শান্তি রক্ষার উদ্যোগগুলোকে একটি কার্যকর বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি এই প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

শান্তি বিনির্মাণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বিশ্বজুড়ে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজস্ব জাতীয় নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন বজায় রাখা এবং এ খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি আয়োজিত জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন। ঢাকায় প্রেরিত এক সরকারি বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সম্মিলিত কল্যাণের স্বার্থে শান্তি রক্ষার উদ্যোগগুলোকে একটি কার্যকর বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি এই প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে নারী ও যুবসমাজের জন্য সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

একই সাথে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কার্যক্রমে নির্ভরযোগ্য, দীর্ঘমেয়াদি ও অনুমেয় তহবিল জোগানের নিশ্চয়তা দাবি করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশ এই শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের অন্যতম সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এ আস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি অভিমত দেন যে, যে কোনো সহিংসতা রোধ ও স্থায়ী সম্প্রীতি অর্জনে মাঠপর্যায়ের জনপদ, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার এবং বিশ্ব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই কমিশনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত।

কেবল সামরিক শান্তিরক্ষা মিশন থেকে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক শান্তি বিনির্মাণে রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে কমিশনের দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকাকে আরও কার্যকর করার পক্ষে মত দেন তিনি। পাশাপাশি কোনো সাধারণ ছকে না ফেলে প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট ও বাস্তবতাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।

তাঁর উপস্থাপিত অন্যান্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে কমিশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে নারী ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং বিগত ২০২৫ সালের প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের তিন দশকেরও অধিক সময়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নারী সদস্যসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ সংঘাতের গোড়াপত্তন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দেশের দায়বদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন দেশে একটি বৈষম্যহীন শাসনকাঠামো, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে, যেখানে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও যুবশক্তির ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।