একটি স্বাবলম্বী, সুরক্ষিত ও উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে যুবসমাজ সর্বদা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মানীয় বক্তৃতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রতিরক্ষার বৃহত্তর বলয়ে তরুণদের বিদ্যাচর্চা, স্বদেশপ্রেম এবং প্রজ্ঞাবান চিন্তার আবশ্যকতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় প্রতিরক্ষার পরিধি কেবল ভৌগোলিক সীমানা পাহারার মধ্যে আবদ্ধ নেই; বরং এটি মানবকল্যাণ, আর্থিক স্থায়িত্ব ও দূরদর্শী কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় স্বদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মূলমন্ত্রে অটল থেকে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তরুণদের এই আদর্শকে ধারণ করে নিজেদের মেধা ও নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চব্বিশের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের স্মৃতিচারণ করে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সেই ক্রান্তিলগ্নে সহযোদ্ধাদের রক্তাক্ত রাজপথে নিজেদের বিপন্ন করে আহতদের সেবা দেওয়া ও সহযাত্রীদের ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর যে নজির তারা স্থাপন করেছিল, তা চিরস্মরণীয়। নিপীড়নের বিরুদ্ধে নবীনদের সেই সংহত অবস্থান ও ত্যাগ চব্বিশের অভ্যুত্থানে দমনমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এক রূপান্তরকামী বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ, সততা ও গভীর দেশপ্রেমের সম্মিলন ঘটিয়ে তরুণরা যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে দেশকে অনন্য মর্যাদায় আসীন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বের ইতি টেনে উপদেষ্টা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব দেন এবং তাদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণাকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আলোচনা সভার পূর্বে তিনি শিক্ষাঙ্গনটিতে দুই দিনব্যাপী চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।