শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জুলাইয়ের ঘটনার বিচার ও গণভোটের রায় কার্যকরসহ ৬ দফা দাবির সমর্থনে আয়োজিত লংমার্চের প্রারম্ভিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। মূল দাবিসমূহের সঙ্গে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়ার নতুন প্রতিশ্রুতির কথা যুক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, অন্যায়ের সঙ্গে যুক্তদের বাংলাদেশে বরদাস্ত করা হবে না।
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও নাগরিক ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে সীমাহীন কষ্টে রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বর্ধিত বিল গুনতে হচ্ছে।
প্রতিবাদী যুবক সিফাতের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির জানান, উক্ত যুবকের বাক্যাংশ পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য না হলেও, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে কথা বলেছে—তার সঙ্গে দেশের আপামর জনতার ক্ষোভের মিল রয়েছে। অবিলম্বে সিফাতের মুক্তি দাবি করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইতিহাস সাক্ষী যে অতীতে বহু ছাত্র-জনতার প্রতিবাদই বড় বড় শাসনের পতন ঘটিয়েছে।
লংমার্চের সার্বিক পরিবেশ ও সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলন দমন করার হুংকার দেওয়া হলে নাগরিক সমাজও তার উপযুক্ত জবাব দেবে। রাজপথ কিংবা জাতীয় সংসদ—সর্বত্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই সুসংগঠিত লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সাধারণ মানুষের সব অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় মনোভাব ব্যক্ত করেন তিনি।
কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত প্রারম্ভিক পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার, ফেনীর মহীপাল ও মিরসরাইয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে চূড়ান্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।