শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণকে কোনো ধরনের চক্রান্ত দিয়েই অবদমিত করে রাখা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী
দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণকে কোনো ধরনের চক্রান্ত দিয়েই অবদমিত করে রাখা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশের প্রাক্কালে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক সাতই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন করে চক্রান্ত চলছে, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে পঁচাত্তরের সাতই নভেম্বরের মতোই শক্ত হাতে এসব অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে।

বিকেল তিনটার দিকে অস্থায়ী সভামঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সাথে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন তারা এই সংগ্রামের সঙ্গী কি না, যার জবাবে উপস্থিত হাজারো সমর্থক তুমুল করতালির মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এদিন দুপুর বারোটা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতার হাতে শোভা পাচ্ছিল লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। বিভিন্ন রঙের পোশাক ও টুপিতে সজ্জিত হয়ে নেতাকর্মীরা এই আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলেন।

সমাবেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চব্বিশের পাঁচই আগস্ট ছাত্র-জনতা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে, আজকের এই দিনটি সেই অর্জিত অধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দিন। একাত্তর, পঁচাত্তর এবং চব্বিশের অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা স্বৈরাচার হটিয়ে দেশকে মুক্ত করতে পারে, তাদের কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যায় না। দেশের ভেতর ও বাইরে চলমান ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, একটি বিশেষ গোষ্ঠী আবারও পাতানো বা একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে, যা এদেশের মানুষ আর কখনোই মেনে নেবে না।

এ সময় তিনি নিজে একটি স্লোগান তুলে ধরে স্পষ্ট করেন যে, অন্য কোনো ভিনদেশ নয়, বরং সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে বাংলাদেশ এবং এই দেশ হবে সবার জন্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, যেভাবে অতীতে চক্রান্তকারীরা ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনি সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও অপশক্তি পিছু হটেছে।

ভাষণ পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে মূল শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং রাস্তার দুই পাশে থাকা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার সাথে এই কর্মসূচিতে শামিল হন। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই আয়োজনের সমাপ্তি টানেন।