ইথিওপিয়ার সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে সৃষ্ট সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কেনিয়ায় প্রবেশ করছেন অসংখ্য মানুষ। দেশান্তরী হওয়া এসব মানুষের মাঝে নারী ও শিশুর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। গৃহহীন হয়ে পড়া এই ভাগ্যহতদের সাহায্যে ইতোমধ্যেই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কেনিয়ার রেড ক্রস কর্তৃপক্ষ।
গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের একটি সংবাদে জানানো হয়েছে, ইথিওপিয়ার দক্ষিণাংশে অবস্থিত ওরোমিয়া প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা মোয়ালে নগরীতে গত বুধবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় অধিবাসীদের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরের ইথিওপিয়া নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রান্তে থেমে থেমে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে।
কেনিয়ার মারসাবিত কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার স্ট্যানলি কামান্দে জানিয়েছেন, সংঘাতপূর্ণ ইথিওপিয়া থেকে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ কেনিয়া সীমান্তের মোয়ালে সংলগ্ন গ্রামগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন। তারা মূলত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজেদের আত্মীয়-পরিজনের বাসগৃহে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন।
তবে ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক লড়াইয়ের সূচনা হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইথিওপিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি মেলেনি।
এদিকে কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, এই ঘটনায় ঠিক কতজন মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং তাদের তাৎক্ষণিক চাহিদাগুলো কী, তা নির্ধারণের কাজ চলছে। সংস্থাটি মারসাবিত কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের সাথে একযোগে কাজ করছে। বাস্তুচ্যুতদের জন্য সাময়িক বাসস্থান, তাঁবু, শীতের কম্বল, শোয়ার ম্যাট এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে অন্তত এক হাজার পরিবারের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেখানে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো এসব অসহায় পরিবারের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়স্থল, পর্যাপ্ত খাবার, পানের যোগ্য বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসা সহায়তার মতো মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে।