দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের মূল প্রবেশদ্বারে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার দৃশ্যপট পর্যালোচনা করে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, চিহ্নিত ব্যক্তিরা কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনুসন্ধানকাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রাজধানীর বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কারণে সৃষ্ট ট্রাফিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এক যৌথ পর্যালোচনার সমাপ্তিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ এবং সামগ্রিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে অনমনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদানের পর পরই একটি দ্বৈত চাকার যান থেকে আদালত চত্বরের বহির্গমন মুখে এসব বিস্ফোরক ছুড়ে মারা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী এই অপতৎপরতাকে উল্লিখিত সাতজনের বিরুদ্ধে প্রদত্ত চূড়ান্ত শাস্তির আদেশের বিপরীতে সৃষ্ট এক ধরনের সংক্ষুব্ধ ও পরিকল্পিত প্রতিরোধমূলক তৎপরতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
একই সঙ্গে গুলশান এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির সাম্প্রতিক ঝটিকা সমাবেশের প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বেআইনি কোনো গোষ্ঠীর আকস্মিক শোডাউন কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে নজরদারি দলগুলো পূর্ণ তৎপর রয়েছে। সার্বিক জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সম্ভাব্য যাবতীয় প্রস্তুতি কার্যকর রাখা হয়েছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।