মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রসারে স্বতন্ত্র তহবিল গড়ার তাগিদ উপদেষ্টা তিতুমীরের

প্রধানমন্ত্রীও এ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট পর্যালোচক দলের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য উদ্ভাবকদের মাঝে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রসারে স্বতন্ত্র তহবিল গড়ার তাগিদ উপদেষ্টা তিতুমীরের
দেশে নতুন চিন্তার বিকাশ ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে একটি বিশেষ তহবিল গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এর শেষ দিনের আয়োজনে শীর্ষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, কীভাবে একটি কার্যকর তহবিল তৈরি করা যায় এবং সেখানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা কীভাবে অর্থায়ন করতে পারেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। বেসরকারি খাত এমন উদ্যোগে এগিয়ে এলে রাষ্ট্র তাদের জন্য কর সংক্রান্ত নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। বিশ্বের বহু দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও এ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট পর্যালোচক দলের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য উদ্ভাবকদের মাঝে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

দেশের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার বর্তমানে তিন ধাপের বিশেষ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় প্রথমে প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে ওঠা, এরপর স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সবশেষে দ্রুততার সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ২০৩৪ সালের ভেতর জাতীয় অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থায়ীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং এসডিজির লক্ষ্যগুলো পূরণ করাই এখন প্রধান জাতীয় এজেন্ডা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে একটি বৃহৎ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র ও কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ রূপরেখা বাস্তবায়নে ওমান ইতোমধ্যে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখতে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক বোঝাপড়া বাড়ানো হচ্ছে।

অতীতের স্মৃতিচারণ করে ড. তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আয়োজিত প্রাথমিক শিল্পমেলার হাত ধরেই দেশে পোশাকশিল্প ও উদ্যোক্তা শ্রেণির ভিত্তি রচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের ভিত মজবুত করা হয়। সেই অগ্রযাত্রাকে ধরে রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর এখনই মোক্ষম সময়। তিনি উদ্ভাবন ভাবনাকে কেবল সাময়িক প্রদর্শনীর মধ্যে আটকে না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং তরুণদের সাধারণ ধারণাকে মহাকাশ ছোঁয়ার মতো উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, বৈশ্বিক বড় বড় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল খুব সাধারণ ও ছোট পরিসর থেকে। তাই তরুণ উদ্ভাবকদের নিজেদের চিন্তা নিয়ে হীনমন্যতায় না ভোগার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সব পরিকল্পনাই অপার সম্ভাবনাময়।

সচিব জানান, আয়োজনে অংশ নিতে বহু প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পঞ্চাশটি উদ্যোগকে মূল প্রদর্শনীতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা দশটি উদ্যোগকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। এছাড়া প্রদর্শনীতে জায়গা পাওয়া প্রতিটি দল প্রশংসাপত্রসহ দশ হাজার টাকা করে সরকারি অর্থসহায়তা পাবে এবং অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।