পদোন্নতির নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অন্যায্য সুবিধা আদায়ের চেষ্টাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, নিজেদের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামের কক্ষে তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট শাখার দুই কর্মকর্তা।
এরপর ক্ষুব্ধ অবস্থায় ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে এক সাধারণ কর্মচারীর ওপর তারা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই কর্মচারীর নাম রেজা, যিনি কমিশন সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেনের দপ্তরে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিনা প্ররোচনায় রেজার ওপর ওই দুই কর্মকর্তা ক্ষোভ উগরে দেন। তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়, 'ফ্যাসিস্ট' আখ্যা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রধান দুই অভিযুক্ত হলেন ইউজিসির সংশ্লিষ্ট শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মহিবুল হাসান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ খান।
তবে গায়ে হাত তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মহিবুল হাসান। ঘটনার নিজস্ব বর্ণনায় তিনি জানান, দপ্তরের বাইরে আগে থেকেই রেজাসহ তিনজন অবস্থান করছিলেন এবং তারাই উল্টো অশোভন আচরণ করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে মামুনুর রশিদ শুধু রেজাকে একপাশে সরিয়ে দিয়েছেন, এর বাইরে কোনো ধরনের সংঘাতের ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
অন্যদিকে, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানতে আরেক অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ খানের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এদিকে, দাপ্তরিক পরিসরে এমন নজিরবিহীন শোরগোল ও উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই কমিশনের অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ ফেলে ঘটনাস্থলে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইউজিসি প্রাঙ্গণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।