ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলের শিল্প শহর ক্রিভি রিহের একটি জনাকীর্ণ বিপণিবিতানে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির সূচনালগ্নে স্থানীয় এক ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই আঘাত হানা হয়। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত চৌদ্দ জন নাগরিক। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে বাইশজন শিশু রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন প্রায় ত্রিশজনের অবস্থা অত্যন্ত নাযুক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই হামলায় মুহূর্তের মধ্যে বহুতল ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা চিত্রে দেখা গেছে, জরুরি সেবাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। ক্রিভি রিহ ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল এই হতাহতের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর নিজ জন্মশহরে সংঘটিত এই আক্রমণের কঠোর ধিক্কার জানিয়ে একে অত্যন্ত নির্মম ও ঘৃণ্য আচরণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রকাশ করেছেন যে, প্রথম আঘাতের ঠিক আধ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় আরেকটি ড্রোন দিয়ে একই স্থানে পুনরায় হামলা চালানো হয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রথম সারির উদ্ধারকারী এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করেই দ্বিতীয় আঘাতটি হানা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এই ধরনের আক্রমণকে সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে রাশিয়ার ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
শুধু ক্রিভি রিহই নয়, মাইকোলাইভ অঞ্চলেও রাশিয়ার পৃথক বিমান হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রণক্ষেত্র থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর ক্রিভি রিহ সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই নিয়মিত আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার সংঘাত নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কিয়েভও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি কেন্দ্র, রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বড় বড় গুদামে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামে সম্প্রতি ইউক্রেনীয় আক্রমণের পর দুই দেশের মধ্যকার উত্তাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে গত জুলাই মাস ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী, যেখানে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। উদ্ভূত এই ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে আন্তর্জাতিক যৌথ জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা দিতে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।