মুন্সীগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক উপমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আর নেই। বুধবার মধ্যরাতের পর রাজধানীর নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবনাবসানের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল আশি বছর। মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী, দুই কন্যা, এক পুত্র এবং বহু রাজনৈতিক অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ চত্বরের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ জননেতা পাঁচ মেয়াদে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী, সংসদের প্যানেল স্পিকার এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে স্থানীয় রাজনীতি ও নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তরুণ বয়স থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাহাত্তরের পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বের সূচনা করেন। পরবর্তীতে দল গঠনের প্রারম্ভিক পর্বে বিএনপিতে যুক্ত হয়ে ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় জাতীয় নেতৃত্বে স্থান করে নেন।