বিশ্ববাজারের দর এবং স্থানীয় পর্যায়ের শোধন ও উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যয় যুক্ত করেই দেশে ভোজ্যতেলের খুচরা দাম চূড়ান্ত করা হয় বলে স্পষ্ট করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
মন্ত্রী জানান, সয়াবিন সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর একটি পণ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্যের ওঠানামার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারে। আমদানি করা তেলের দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট একটি নীতিমালা রয়েছে। জাহাজ ভাড়া, জাহাক থেকে পণ্য খালাস, ইন্স্যুরেন্স, পরিশোধনের খরচ, পরিবহন ও স্বাভাবিক অপচয় সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় মূল মূল্যের সঙ্গে হিসাব করেই চূড়ান্ত দর স্থির করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা যদি মাসের পর মাস লোকসানের মুখোমুখি হন, তবে দেশের বাজারে পণ্যটির স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। সে কারণে তেলের সরবরাহ সচল রাখা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি এড়াতে বাজারে ন্যায্য ও যৌক্তিক সামঞ্জস্য রাখা আবশ্যক।
বাজারদর সহনীয় রাখতে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের টিসিবির মাধ্যমে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই ঈদের সময়ে খোলা বাজারে বিক্রি কার্যক্রম এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস সেবা সচল রয়েছে। বাজারে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমদানিকারকদের এলসি খোলা থেকে শুরু করে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
চিনির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মেঘনা গ্রুপের কাছে অপরিশোধিত চিনির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জ্বালানি ও ইউটিলিটিজনিত কারিগরি জটিলতায় সাময়িকভাবে উৎপাদনে বাধা এলে তা খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠে সরবরাহ গতিশীল করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি, ফলে বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করলে এই বেতন পুনর্গঠন অত্যন্ত যুক্তিসংগত। তবে বাজেট ও বাজারের ওপর হঠাৎ চাপ এড়াতে এটি একবারে না দিয়ে আগামী বছরের জুলাই নাগাদ পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে, যার ফলে বাজারে পণ্যমূল্য হঠাৎ করে বাড়বে না।
সুগন্ধি চালের রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত অনুমোদনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার টন চাল বিদেশে পাঠানো হয়েছে। যেসকল প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে চাল রপ্তানি করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বরাদ্দ বা ছাড়পত্র উল্লেখযোগ্য পরিমানে বাতিলের আওতায় আনা হবে।