উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রশাসনের প্রধান উনাল উস্তেল নিশ্চিত করেছেন যে, কিরেনিয়া বন্দর থেকে রওনা হওয়ার পরপরই যানটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি উল্টে যায়। নৌরুট ও পরিচালনা সংক্রান্ত গাফিলতি খতিয়ে দেখতে উক্ত ফেরির প্রধান চালক বা ক্যাপ্টেনসহ আটজন ক্রু সদস্যকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অসুবিধাজনক আবহাওয়ার কারণে কিছুটা দেরিতে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ কিরেনিয়া পর্যটন এলাকা থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল যানটি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উনাল উস্তেল জানান, সাগরের প্রচণ্ড উত্তাল অবস্থায় দুটি শক্তিশালী ও প্রকাণ্ড ঢেউ পরপর আঘাত হানে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার মুহূর্তেই দ্বিতীয় তরঙ্গের ঝাপটায় কাঠামোর ভেতরে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং জলযানটি পুরোপুরি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনা সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই নৌ ও আকাশপথে উদ্ধারকারী নৌযান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তীরে পৌঁছে দেওয়া প্রায় একশ যাত্রীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বহর। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, উচ্চগতির ফিলো জেট নামের নৌযানটি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। ঘটনাটিতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের স্বজনদের জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ কেন্দ্র চালু করেছে এর পরিচালনাকারী সংস্থা।
বিপর্যয়ের সময়ে মুস্তফা কোচ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা নিজের ব্যক্তিগত জলযান নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান এবং আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি থেকে প্রায় ৬৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন। তিনি পরবর্তীতে জানান যে, বিরূপ আবহাওয়া ও পূর্ববর্তী সামান্য ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও উত্তাল সাগরে ফেরিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই উচিত হয়নি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনিক কঠোর বার্তা দিয়ে উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, নৌ-নিরাপত্তা ও চালনার ক্ষেত্রে কোনো রকম শিথিলতা বা দায়িত্বহীনতা প্রমাণ হলে অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।