দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিশেষ প্রাধ্যান্য লাভ করে। আলোচনা চলাকালে ড. ইউনূস মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ও মৌলিক চাহিদা পূরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট পরিচয় ও সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তা দীর্ঘমেয়াদে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রধান এ সময় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং সংকট মোকাবিলায় জাপানের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। আধুনিক বন্দর এবং দক্ষ যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ যে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারে পরিণত হতে পারে, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর, সামাজিক ব্যবসার প্রসার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়গুলোও সেশনে স্থান পায়।
জাপানের বিশেষ দূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান সুদৃঢ় বন্ধুত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্য দূরীকরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগকে সফল করতে হলে যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার পথ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে ড. ইউনূসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ। অন্যদিকে জাপানি প্রতিনিধিদলে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।