দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরতে আগামী বছর থেকে প্রতিটি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার লক্ষ্যেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পল্টন ময়দানে ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপলের ব্যবস্থাপনায় ঢাক-ঢোল ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেয় দেশের ক্রীড়াঙ্গন। তীব্র দাবদাহ সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থেকে লাঠি খেলা ও বলি খেলার মতো দেশীয় ইভেন্টগুলো উপভোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আগামী বৈশাখ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত গ্রামীণ মেলার আদলে ক্রীড়া উৎসব করা হবে। মূলত শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
নারী ক্রীড়াবিদদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, নারী অ্যাথলেট ও সংগঠকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে যা দ্রুত কার্যকর করা হবে। ক্রীড়া ও উৎসবের মেলবন্ধনে তরুণ সমাজের মাঝে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, খেলাধুলাই পারে সমাজের অস্থিরতা দূর করে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে।
এদিন পল্টন ময়দানে উৎসবের আমেজে সরকারি ছুটির দিনেও দাপ্তরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জুবায়ের রহমান রানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আসন্ন এশিয়ান বিচ গেমস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। পাশাপাশি ক্রীড়া পরিদপ্তরের বিভিন্ন জরুরি কাজের নির্দেশনাও মাঠ থেকেই প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী। আর্চারি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সংবাদপত্র বন্ধ থাকলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল অনুষ্ঠানস্থলে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর ছিল সবার। তবে পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন পরিবেশে খেলাধুলা ও উৎসবের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।