আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ না করার কারণে চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট ওই আসনের নির্বাচনী ফলাফল বা গেজেট প্রকাশ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন দুই পক্ষের দীর্ঘ আইনি শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।
আইনি এই লড়াইয়ে আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অপরদিকে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রবীণ আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঋণ খেলাপির অযোগ্যতা থাকার পরও গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির চূড়ান্ত দিনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্রটিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। একই সাথে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীও লিভ টু আপিল দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনা সেই লিভ টু আপিলটি মঞ্জুর করেন।
আদালতের সেই নির্দেশনার আলোকেই আসলাম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তখন শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন যে, আপিল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং কোনো গেজেট প্রকাশ করা যাবে না। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী ভোটে জয়লাভ করলেও আদালতের পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশের কারণে তার বিজয়ের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এত দিন আটকে ছিল, যা আজকের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল।