আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এসব কথা জানান।
বক্তব্যকালে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীর বৈশ্বিক চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত এক শতকে বিশ্বজুড়ে বাঘের সংখ্যা যেখানে লাখের কোঠায় ছিল, বর্তমানে তা কমে প্রায় পাঁচ হাজারে এসে ঠেকেছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে প্রাণীটি কতটা অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। সঠিক সময়ে যথাযথ উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত না করা গেলে সুন্দরবনের এই রূপকার চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
দেশের অভ্যন্তরে বাঘের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে ১১২টির মতো বাঘের উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৫টি এবং দেশের অপরাপর চিড়িয়াখানাগুলোতে প্রায় ৫০টির মতো বাঘ সংরক্ষিত আছে। জাতীয় এই সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি, যাতে আগামী দিনের শিশুরা এই প্রাণীর গুরুত্ব বুঝতে পারে।
বাঘ শুমারির আর্থিক বরাদ্দ ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, এই গণনা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে বন বিভাগের একতিয়ারভুক্ত, যা তাদের নিজস্ব নিয়মে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এতে সরাসরি যুক্ত নয়।
সমাবেশ শেষে তিনি জাতীয় চিড়িয়াখানার স্মৃতিচিহ্ন বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। আয়োজনে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা মো. শাহজামান খান, চিড়িয়াখানার প্রশাসনিক প্রধান ডা. মো. শাহীনুর আলম ও কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।