বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রথম ১০০ দিন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এই উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের বেপারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে তিনি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্য আরও উন্নত হবে এবং উভয় রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশে আমেরিকান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান।
নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
একটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল’ নিশ্চিত করতে দুই দেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন রোধে এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যু
জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যক্ষ্মা ও হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে এখনো শীর্ষ দাতা দেশ হিসেবে পাশে আছে এবং সমস্যার টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ঠিক আগে দায়িত্ব গ্রহণ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কূটনৈতিক মিশন শুরু করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।