সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ‘হামাস সক্রিয়’, দাবি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ‘হামাস সক্রিয়’, দাবি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের
ভারতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। ছবি: এনডিটিভি

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংগঠনটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল।

তবে তিনি তার এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এমন প্রেক্ষাপটে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই এ বক্তব্য আসে।

এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং চরমপন্থা দমনে ইসলামাবাদের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে “বিশ্বাস করে না” এবং তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে।

তিনি আরও বলেন, “এমন কিছু দেশ আছে যারা মনে করে, শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

শান্তি বিষয়ে ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে কাতারের ভূমিকাও সমালোচনা করেন আজার।

সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু তথ্য প্রকাশ্যে থাকলেও আরও কিছু কার্যক্রম জনসম্মুখে না-ও আসতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস যেভাবে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল, একই ধরনের ‘চরমপন্থি’ সংগঠনগুলো অন্য কোথাও একই মডেলে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

আজার বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত এবং তারা এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

তিনি পাকিস্তানের সরকারি মহলের একাংশের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষী বয়ান’ ছড়ানোর অভিযোগও আনেন। তার মতে, এসব বক্তব্য পাকিস্তানের অবস্থান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ মামলা করে, যেখানে বহু দেশ সমর্থন জানায়। অভিযোগে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে গাজায় হামলা চালানো হচ্ছে, যা ১৯৪৮ সালের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ লঙ্ঘন।

এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় আরও হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষের মরদেহ আটকে থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।