ঢাকা ও প্যারিসের মধ্যকার ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল যোগাযোগ, মহাকাশ বিজ্ঞান, উচ্চতর গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আইটি খাতের কর্মসংস্থান উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলা, টেকসই কৃষি উৎপাদন, ভূমির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক প্রয়োজনীয়তা আমলে নিয়ে সরকার এমন একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই করছে এবং এই বড় প্রকল্পে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মহাকাশ ও উপগ্রহ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ফ্রান্সের রয়েছে দীর্ঘদিনের সফল অভিজ্ঞতা। পারস্পরিক তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই খাতে দুই দেশের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
জবাবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানান, বাংলাদেশের এই নতুন স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই, লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্স পূর্ণ সহযোগিতা করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
তিনি এই প্রযুক্তির উপযোগিতা তুলে ধরে বলেন, একটি আধুনিক ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ মূলত কৃষি উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা, নগর ও ভূমি পরিকল্পনা প্রণয়ন, দেশের সীমান্ত পাহারা এবং সামুদ্রিক সম্পদ তদারকিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর খাতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, এই মহাকাশ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও ফ্রান্স সরাসরি যুক্ত হতে চায়।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ যৌথ অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বাংলাদেশে বহুজাতিক বিমান ও মহাকাশ নির্মাণ সংস্থা এয়ারবাসের প্রধান প্রতিনিধি রাফায়েল গোমেজ এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।