বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বেকারত্ব দূরীকরণে বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তরুণরা

দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বেকারত্ব দূরীকরণে বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তরুণরা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তরুণরা। এর পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা, বিনামূল্যে পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণকালীন ৫ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এক প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের উত্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কোনো প্রকার সুদ ছাড়া ঋণ প্রদানের কোনো সরকারি উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা জানতেই মূলত এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত কোনো ঋণ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা নেই। তবে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন ধরণের সহজ শর্তের ও স্বল্প সুদের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক গতি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের বিশেষ তহবিলের আকার বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে এই ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে নতুন ব্যবসার স্বপ্ন দেখা তরুণরা কোনো প্রকার জামানত বা গ্যারান্টি ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এছাড়া কোনো উদ্যোক্তা যদি প্রয়োজনীয় জামানত দিতে সক্ষম হন, তবে তার জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর বাইরে স্টার্টআপ বা সৃজনশীল নতুন ব্যবসাগুলোর অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পৃথক ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ বা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এই বিশেষ ফান্ড থেকে তরুণরা নামমাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। কেবল ঋণ দেওয়াই নয়, স্টার্টআপ খাতকে সরাসরি মূলধনী বা ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ৩৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের যৌথ অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হয়েছে। সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

নতুনদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকারের বিশেষ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, একটি বিশেষ উদ্ভাবন ও শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রোগ্রামের অধীনে বিভিন্ন জেলায় মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্য তরুণদের কোনো প্রকার ফি বা অর্থ খরচ করতে হয় না। উল্টো যারা সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারবেন, তাদের উৎসাহ দিতে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই কোর্স সম্পন্নকারীরা পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে ব্যবসা শুরুর ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার বা সুবিধা পাবেন বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।